শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের বিশ্বখ্যাত ক্লাসিক গল্প ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ কিংবা হলিউডের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ানে লুকানো গুপ্তধনের গল্পে রোমাঞ্চিত হননি এমন মানুষ খুব কমই আছেন। শত শত বছর ধরে পুঁতে রাখা গুপ্তধন, প্রাচীন জাহাজের গল্প ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্য-রোমাঞ্চ গল্পে, মানুষের মুখে মুখে। ৩৫০ বছর আগে সেরকমই এক ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে অমূল্য গুপ্তধন উদ্ধার করেছে একটি অনুসন্ধানী দল। স্প্যানিশ গ্যালিয়ন বা বিশেষ ডিজাইনের কাঠের জাহাজটির নাম নুয়েস্ত্রা সেনোরা ডে লাস মারাভিলাস বা আওয়ার লেডি অব ওন্ডার্স। ১৬৫৬ সালে বাহামা উপকূলে বিপুল ধনরত্ন নিয়ে ডুবে যায় জাহাজটি। ধারণা করা হয় কিউবা থেকে রাজকোষাগারের জন্য এসব ধনরতœ নিয়ে স্পেনে যাচ্ছিল মারাভিলাস। এমনকি এই জাহাজে আরেকটি ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে উদ্ধার করা ধনরতœও ছিল বলে ধারণা করা হয়। তাই ডুবে যাওয়ার পর থেকেই এসবের খোঁজে নানা সময় অভিযান চালানো হয়েছে সাগরজুড়ে, এখন পর্যন্ত জাহাজটির ৩৫ লাখ জিনিস উদ্ধার করা গেছে। তবে বাকি আছে আরও। সর্বশেষ ২০২০ সাল থেকে টানা ২ বছর অভিযান চালিয়ে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে স্বর্ণমুদ্রা, সোনার চেইন, তলোয়ারের রুপার হাতল, চীনা মাটির পাত্র, রতœখচিত গহনা উদ্ধার করা হয়েছে। গহনাগুলোর মধ্যে স্বর্ণের ক্রুশের মধ্যে বিশাল পান্না পাথরের কেবল একটি গহনার দামই হতে পারে আকাশচুম্বী। অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালেন এক্সপ্লোরেশন সোনার প্রযুক্তি,ম্যাগনেটোমিটারের মতো রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে এসব খুঁজে বের করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাহামা উপকূলে সাগরতলের প্রায় ১৩ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জাহাজটির নানা জিনিস। এত কষ্টের পর রতœ উদ্ধারের প্রতিক্রিয়ায় অ্যালেন এক্সপ্লোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা কার্ল অ্যালেন বলেন, ‘যখন আমরা ডিম্বাকৃতির পান্নাখচিত গহনাটি তুলে আনি, উত্তেজনায় আমার গলায় দম আটকে গিয়েছিল, এই গহনাগুলো সাগরের এই প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে এখনো অক্ষত রইল এটা সত্যিই মারাভিলাসের একটি চমক’।